(১) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, করযোগ্য কোন সরবরাহের পণ হইতে উক্ত পণের কর-ভগ্নাংশের সমপরিমাণ অর্থ বিয়োগ করিয়া যাহা পাওয়া যাইবে তাহাই হইবে সরবরাহ মূল্য।
[পণ হচ্ছে করসহ মূল্য। পণকে কর-ভগ্নাংশ দিয়ে গুণ করলে মূসক পাওয়া যাবে। কর-ভগ্নাংশ হলো করহার/১০০+ করহার। পণ থেকে মূসক বিয়োগ করলে সরবরাহ মূল্য পাওয়া যাবে। এ সরবরাহ মূল্যই ব্যবসায়ীর প্রাপ্য। ধরি, কোন সরবরাহের পণ ১০০ টাকা। তাহলে [১০০-(১০০ x ১৫/১১৫)] = ৮৬.৯৬ টাকা সরবরাহ মূল্য।]
(২) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের পণ হইবে সরবরাহের মূল্য বা সরবরাহকারী এবং সরবরাহ গ্রহীতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হইলে ন্যায্য বাজার মূল্য।।
(আমদানিকৃত সেবার ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা ও সেবা সরবরাহকারী পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। আইনের ধারা ২ এর দফা (১৮) তে সংজ্ঞায়িত ইলেক্ট্রনিক সেবাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পর্কহীন আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত হয়। এটিকে সেবাগ্রহীতা ও সেবা সরবরাহকারীর মধ্যে পরস্পর সম্পর্কহীন সেবার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। আবার আইনের ধারা ২০ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (খ), (গ), (ঘ) এবং আইনের ধারা ২৪ এর উপ-ধারা (৭) এর দফা (ক), (খ) পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সেবার উদাহরণ। আমদানিকৃত সেবার ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা ও সেবা সরবরাহকারী পরস্পর সম্পর্কযুক্ত না হলে ঐ মূল্যই হবে সরবরাহ মূল্য বা প্রকৃত বিনিময় মূল্য। যদি মূল্য না থাকে তবে ন্যায্য বাজার মূল্য তত্ত্ব প্রয়োগ করে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। ধারা ১৫ অনুযায়ী সরবরাহ মূল্যের সাথে মুসক হার গুণ করে বা ধারা ৩২ অনুযায়ী পণের সাথে কর-ভগ্নাংশের সমপরিমাণ অর্থ গুন করে মূসক পরিশোধ করবেন।
কোন প্রকার সম্পর্ক ও প্রভাববিহীন মূল্যই ন্যায্য বাজার মূল্য।)
(৩) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক তাহার সহযোগীর নিকট সরবরাহকৃত করযোগ্য সরবরাহের মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য হইতে উহার কর-ভগ্নাংশ বিয়োজিত মূল্য, যদি-
(ক) উক্ত সরবরাহ পণবিহীন হয় বা উহার পণ ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম হয়। এবং
(খ) উক্ত সহযোগী এইরূপ সরবরাহের নিমিত্ত উদ্ধৃত সমুদয় উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণের অধিকারী না হন।
(কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি তার সহযোগীর (আইনের ধারা ২ এর দফা (৯৭) তে সংজ্ঞায়িত) নিকট করযোগ্য সরবরাহ প্রদান করলে উক্ত সরবরাহ পণযুক্ত বা পণবিহীন উভয়ই হতে পারে। যদি সরবরাহটি পণবিহীন হয় তবে সেক্ষেত্রে রেয়াতের আইনী অধিকার সৃষ্টি হবে না। কেননা, পণ পরিশোধ করার সময় মূসক পরিশোধ করতে হয়, যা রেয়াতের আইনী অধিকার সৃষ্টি করে। যেহেতু, পণই পরিশোধ করা হয় না সেহেতু সরবরাহ গ্রহণকারী রেয়াত গ্রহণের অধিকারী হয় না। তাই ন্যায্য বাজার মূল্য তত্ত্ব প্রয়োগ করে করযোগ্য সরবরাহের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
একজন নিবন্ধিত ব্যক্তি ন্যায্য বাজার মূল্যে বা, ন্যায্য বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কিংবা পণবিহীন সরবরাহ করতে পারেন। ন্যায্য বাজার মূল্যে সরবরাহ করলে সেক্ষেত্রে সে সরবরাহ আইনানুগ। কিন্তু ন্যায্য বাজার মূল্য থেকে কম মূল্যে বা পণবিহীন সরবরাহের ক্ষেত্রে ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।)
(৪) অন্যবিধভাবে নির্ধারিত না থাকিলে পণবিহীন করযোগ্য সরবরাহের মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য হইতে উহার কর-ভগ্নাংশ বিয়োজিত মূল্য।
(পণবিহীন সরবরাহ বলতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি-২ এর (ঞ) মোতাবেক বিনিময় পদ্ধতির সরবরাহ এবং বিধি-২০ অনুযায়ী কোন অর্থবৎসরে নমুনা হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) হাজার টাকার সরবরাহ ও অন্যান্য অনুরূপ সরবরাহকে বুঝানো হয়েছে।)
(৫) পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপকরণ-উৎপাদ সহগ (Input-Output Coefficient) দাখিল করিতে হইবে।।
(১৯৯১ সালের আইনে মূল্য ঘোষণা প্রদানের বিধান ছিল। সে মূল্য ঘোষণায় উপকরণ-উৎপাদ সহগ ছিল। যা দ্বারা পণ্যের উৎপাদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যেত। বর্তমানেও পণ্যের উৎপাদন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে উপকরণ-উৎপাদ সহগ ঘোষণার বিধান করা হয়েছে। তবে সেবার ক্ষেত্রে উপকরণ-উৎপাদ সহগ ঘোষণার বিধান রদ করা হয়েছে। দাখিলকৃত সহগের অনুলিপি বিভাগীয় কর্মকর্তা সুপারিশসহ পনের কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনারের নিকট প্রেরণ করবেন। তবে তা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে অধ্যায়ভিত্তিক আলোচনা অংশে চতুর্থ অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।